ঢাকাFriday , 25 March 2022
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও ন্যায়
  4. খেলা ধুলা
  5. জীবন যাপন
  6. টাকা বা ডলারের মান হ্রাস বা বৃদ্ধি
  7. ট্রাফিক সার্জেন্টে
  8. ধর্মীয় রীতিনীতি
  9. পার্ক
  10. প্রশাসন
  11. বিনোদন
  12. বিলাসী
  13. বিসিএস
  14. মামলা
  15. মোবাইল ফোন কোম্পনি
আজকের সর্বশেষ সব খবর

সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার বাঁধে দখলদারের থাবা, তদারকি নেই

Link Copied!

বাগেরহাটের শরণখোলায় উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের (সিইআইপি-১) নির্মাণাধীন টেকসই বেড়িবাঁধের ওপর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ নেই। উল্টো প্রতিনিয়ত বাঁধের দুই পাশে উঠছে আরো নতুন নতুন ঘর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি না থাকা এবং স্থানীয়দের অসচেতনতায় যে যার মতো বাঁধ দখল করে ব্যবসা-বাণিজ্য করছে। এতে সৌন্দর্য নষ্টের পাশপাশি ঝুঁকির মুখে পড়ছে প্রায় সাড়ে তিন শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিয়মাণ এই বাঁধটি।

#New_Classic_Event_Management

এনিয়ে গত বছরের (২০২১) ২৫ নভেম্বর দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতায় ‘একদিকে উন্নয়ন, অন্যদিকে দখল’ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়। ওই সময় বাঁধ কর্তৃপক্ষ বাঁধের ওপর এবং আশপাশের সকল অবৈধ স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদেরে কথা জানিয়েছিল। কিন্তু ওই কথার প্রায় চার মাস পার হলেও উচ্ছেদ তো দূরের কথা, দখলের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে আরো বহুগুণ। তখন অর্ধ শতাধিক স্থাপনা ছিল বাঁধের ওপর। সেই সংখ্যা বেড়ে এখন হয়েছে প্রায় এক শ।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারের ৬২ কিলোমিটার বাঁধের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ঘর তুলছে স্থানীয়রা। বলেশ্বর নদের তীরের ব্লকের ওপর তোলা হয়েছে টিন ও কাঠের নতুন নতুন ঘর। বিশেষ করে সাউথখালী ইউনিয়নের বগী, গাবতলা, উত্তর সাউথখালী, তাফালবাড়ী, চালরায়েন্দা, রায়েন্দা ইউনিয়নের, দক্ষিণ রাজাপুর, লাকুড়তলা, রাজেশ্বর, জিলবুনিয়া, রায়েন্দা ফেরিঘাট এলাকা, রায়েন্দা বাজার এবং খোন্তাকাটা ইউনিয়নের রাজৈর, পূর্ব খোন্তাকাটা ও কুমারখালী এলাকায় এসব ঘর বেশি উঠেছে। এদের মধ্যে অনেকে ক্ষতিপূরণ নিয়ে আবার সেখানে ঘর তুলেছে। আবার যারা এসব স্থানে কখনোই ছিল না সুযোগ পেয়ে তারও নতুন করে দখল করছে।

এ ছাড়া শরণখোলা উপজেলা পরিষদের প্রবেশমুখ বান্দাঘাটা এলাকার প্রধান স্লুইস গেটের দুই পাশের বাঁধ দখল করে ইট-বালুর রমরমা ব্যবসা চলছে। প্রভাবশালী এসব দখলদাররা প্রত্যেকেই বাঁধ নির্মাণের আগে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ নিয়েছে। অথচ বাঁধের কাজ শেষ না হতেই আবার তারা পূর্বের জায়গা দখল করে বসে আছে। এতে বাঁধ এবং স্লুইস গেট দুটোই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

প্রকল্পের ফিল্ড সুপারভাইজার মো. শামীম আহমেদ বলেন, বাঁধের কাজ এখনো শেষ হয়নি। তার মধ্যেই দখল শুরু হয়েছে। বাঁধের ব্লকের ওপর বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ এবং মাটির অংশ দখল করে ব্যবসা-বাণিজ্য করছে। বাধা দিলে তারা কিছুতেই শুনছে না। আগের তুলনায় আরো বেশি করে ঘর ওঠাচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এসব অবৈধ দখলদারের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

অবৈধ দখল উচ্ছেদের বিষয়ে জানতে চাইলে উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের (সিইআইপি-১) খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, দখলদারদের সেচ্ছায় দ্রুত সরে যাওয়ার জন্য প্রথমে নোটিশ করা হবে। এতে কাজ না হলে ভেঙে ফেলা হবে সকল স্থাপনা। এ ব্যাপারে শিগগিরই উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আজগর আলী বলেন, সিইআইপি প্রল্প বা পানি উন্নয়ন বোর্ড চাইলে অবৈধ স্থাপনা বা দখল উচ্ছেদে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর প্রলয়ঙ্করি ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ বয়ে যায় উপকূলীয় শরণখোলার ওপর দিয়ে। সেই ঝড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে যায়। এর পর এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে টেকসই বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি প্রায় সাড়ে ৩০০কোটি টাকা ব্যয়ে ৬২ কিলোমিটার বাঁধের কাজ শুরু হয়।

‘সিএইচডব্লিউই’ নামে চীনা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এই কাজ বাস্তবায়ন করছে। তিন বছর মেয়াদি এই বাঁধ নির্মাণ কাজ ২০১৮ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান পরবর্তীতে আরো দুইদফা সময় বৃদ্ধি করে। এ বছরের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Shares

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

প্রযুক্তি সহায়তায়: মুশান্না কম্পিউটার আইটি