ঢাকাWednesday , 12 May 2021
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও ন্যায়
  4. খেলা ধুলা
  5. জীবন যাপন
  6. টাকা বা ডলারের মান হ্রাস বা বৃদ্ধি
  7. ট্রাফিক সার্জেন্টে
  8. ধর্মীয় রীতিনীতি
  9. পার্ক
  10. প্রশাসন
  11. বিনোদন
  12. বিলাসী
  13. বিসিএস
  14. মামলা
  15. মোবাইল ফোন কোম্পনি
আজকের সর্বশেষ সব খবর

মৌসুমী তার পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে সাইকেল চালিয়ে ২৫৫ কিমি ভ্রমণ

DN বাংলা TV
May 12, 2021 5:55 pm
Link Copied!

রোজা রেখে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেই দীর্ঘ এ পথ পাড়ি দেন তিনি
বগুড়ার মেয়ে মৌসুমি আকতার এপি তালুকদার। ঢাকায় শিক্ষকতা করেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণে রোধে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সরাসরি পরিবহণ বন্ধ থাকায় অনেকের মতোই ঢাকায় আটকা পড়েছিলেন তিনি। তবে নাড়ির টান ও পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির ইচ্ছা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।

#New_Classic_Event_Management

বৃষ্টি ও বৈরি আবহাওয়ার মধ্যেই ঢাকা থেকে বাইসাইকেলে দীর্ঘ ২৫৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বগুড়ার সান্তাহারের রথবাড়ি এলাকার বাড়িতে পৌঁছে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন মৌসুমি। এতে হতবাক স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী ও এলাকাবাসীরা তার এ সাহসিকতাকে স্বাগত জানিয়েছে।

মৌসুমির স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুমি আকতার এপি তালুকদার বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারের রথবাড়ি এলাকার মৃত আবদুল হাকিম তালুকদারের মেয়ে। তিনি এপি তালুকদার নামে পরিচিত।

মৌসুমি গত ২০১৮ সালে ঢাকার তিতুমীর কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স করেন। ঢাকার গোলাপবাগে থেকে বনানীর “টিটাগাং গ্রামার স্কুলে” শিক্ষকতা করছেন। তিনি একাধারে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের রেফরি, সাইক্লিস্ট, অ্যাথলেট ও ম্যারাথনিস্ট।

জানা গেছে, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে লকডাউনে ট্রেন ও দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ থাকায় মৌসুমি স্কুল থেকে ছুটি পেলেও বাড়িতে স্বজনদের সাথে কীভাবে ঈদ করবে তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশংকায় তিনি গণপরিবহণ উপেক্ষা করেন। আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আলোচনার এক পর্যায়ে মৌসুমি বাইসাইকেলে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে বাড়িতে গিয়ে ঈদ করার সিদ্ধান্ত নেন।

গত ৩ মে বিকাল ৫টা ৩৩ মিনিটে তিনি ঢাকার গোলাপবাগের বাসা থেকে বাইসাইকেলে যাত্রা শুরু করেন। সঙ্গে নেন প্রয়োজনীয় সকল জিনিসপত্র। পথিমধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মীর রাসেল তার সঙ্গে যোগ দেন। তারা দু’জন বাইসাইকেল চালিয়ে টাঙ্গাইলে যমুনা সেতুর পূর্ব পাড়ে আসেন। সেতুতে হেঁটে বা বাইসাইকেলে পারাপারের সুযোগ না থাকা তারা একটি কার্গোতে সেতুর পশ্চিম পাড়ে আসেন। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ভুঁইয়াগাড়ি এলাকায় পৌঁছলে রাসেল নিজ বাড়িতে চলে যান। এরপর মৌসুমি একাই ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে সাইকেল চালিয়ে ৪ মে শেষ রাতে বগুড়ার কলোনী এলাকায় পৌঁছান।

সেখানে বান্ধবী মালার বাড়িতে সেহরি শেষে সকাল ৬টা ১০ মিনিটে বগুড়ার সান্তাহারের রথবাড়ি এলাকায় বাড়ির দিকে রওনা হন। প্রায় ১৪ ঘণ্টায় ২৫৫ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে সকাল ১০টার দিকে বাড়িতে পৌঁছেন। তবে বৃষ্টির কারণে তার যাত্রায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটে।

মৌসুমি আকতার এপি তালুকদার জানান, লকডাউনের কারণে ট্রেন ও দুরপাল্লার বাস বন্ধ। গণপরিবহণে গাদাগাদি করে বাড়ি ফিরতে হবে। তাই তিনি তার “ভালোবাসা” বাইসাইকেলে বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। এ যাত্রা ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের জন্য দূরহ। শুধু নাড়ির টানে, রোজা রেখে ও বৈরি আবহাওয়া পেরিয়ে তার শখ পূরণ করেন।

তিনি জানান, মহাসড়ক ছয় লেন হওয়ার কারণে তার সাইকেল চালাতে তেমন সমস্যা হয়নি। তবে যমুনা সেতুতে অনুমতি না থাকায় তিনি তার সহ-সাইক্লিস্ট কার্গোতে পার হয়েছেন।

মৌসুমি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনি রেফরি, সাইক্লিস্ট, অ্যাথলেট ও ম্যারাথনিস্ট হলেও বগুড়া থেকে কখনও ভালো প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি। বগুড়া মেয়ে হওয়ার পরও তাকে নওগাঁ পরিচয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হতো। এটা তার জীবনের একটা বড় দুঃখ। ভবিষ্যতে তিনি বাইসাইকেলে আরো দূরের পথ পাড়ি দিতে চান।

বগুড়ার সান্তাহার পৌরসভার প্যানেল মেয়র সার্জিস আলম রতন জানান, মৌসুমি নারী হয়েও যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তা অভাবনীয়। তিনি রোজা রেখে, বৈরি আবহাওয়ার মধ্যে বাইসাইকেলে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার এমন সাহসিকতা অন্য নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Shares

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

প্রযুক্তি সহায়তায়: মুশান্না কম্পিউটার আইটি