ঢাকাWednesday , 6 April 2022
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও ন্যায়
  4. খেলা ধুলা
  5. জীবন যাপন
  6. টাকা বা ডলারের মান হ্রাস বা বৃদ্ধি
  7. ট্রাফিক সার্জেন্টে
  8. ধর্মীয় রীতিনীতি
  9. পার্ক
  10. প্রশাসন
  11. বিনোদন
  12. বিলাসী
  13. বিসিএস
  14. মামলা
  15. মোবাইল ফোন কোম্পনি

বিমানবন্দরগুলোর আধুনিকায়নের উদ্যোগ আটকে আছে যে কারণে

Link Copied!

সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সীমানাপ্রাচীরের বিভিন্ন অংশে কাঁটাতার না থাকায় খুব সহজেই দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে পড়তে পারে মানুষ। এর ফলে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে।

#New_Classic_Event_Management

বাংলাদেশ নিয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তের ভ্রমণপিপাসু মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। আবার কর্মঘণ্টা বাঁচাতে দেশের অভ্যন্তরেও মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে উঠছে আকাশপথ। তবে সেই তুলনায় বাড়েনি দেশের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোর আধুনিকায়ন। ফলে যাত্রীরাও পাচ্ছে না যথাযথ সেবা।

আর নির্বিঘ্ন বিমান অবতরণও থেকে যাচ্ছে প্রশ্নের মুখে। এ পরিস্থিতিতে দেশের বিমানবন্দরগুলোর আধুনিকায়নে সরকার উদ্যোগ নিলেও নানা অব্যবস্থাপনায় থমকে আছে কাজ।

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কক্সবাজার বিমানবন্দর, রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দর আধুনিকায়নে প্রকল্প চুক্তিও হয়েছিল। নানা জটিলতায় এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে না। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কম্পানিকে দেওয়া এসব প্রকল্পের কাজ উদ্বোধনের পর আর এগোয়নি। কারণ নানা অনিয়মের অভিযোগে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এসব চুক্তি বাতিল করে দেয়।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের শাহ আমানত, সিলেট ওসমানী ও কক্সবাজার বিমানবন্দরের পাঁচটি উন্নয়ন প্রকল্পের পিডির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বেবিচকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানকে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এতগুলো প্রকল্পে একজন মাত্র প্রকৌশলীকে দায়িত্ব দেওয়ায় কোনো কাজ ঠিকমতো এগোয়নি।

অন্য দেশের নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে আকৃষ্ট করতে গত কয়েক বছর ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। তবে আকাশপথে তাদের নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করা যায়নি। ঢাকা ও চট্টগ্রাম—এ দুটি বিমানবন্দর ছাড়া অন্য বিমানবন্দরগুলো পরিচালিত হচ্ছে পুরনো প্রযুক্তিতে। কক্সবাজার, সিলেট, রাজশাহী ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নির্বিঘ্নে বিমান চলাচলের ব্যবস্থা নেই। এসব বিমানবন্দরে যাত্রীদের ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। নেই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে গত বছর গরুর সঙ্গে বিমানের ধাক্কায় দুটি গরু মারা যায়। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় ৯৪ জন যাত্রী।

নকশার ত্রুটিতে স্থবির ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প

সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করলেও সেগুলো আলোর মুখ দেখছে না। এই বিমানবন্দরে বর্তমানে দুটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এর মধ্যেঅত্যাধুনিক টার্মিনাল ভবন, একটি কার্গো ভবন, আধুনিক এটিসি টাওয়ার, ট্যাক্সিওয়ে ও অ্যাপ্রোন এবং আধুনিক ফায়ার স্টেশন স্থাপনে নেওয়া হয় একটি প্রকল্প। দুই হাজার ১১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২০২০ সালের ১৯ এপ্রিল টেন্ডার আহ্বান করা হয়। টেন্ডারে চীনের বেইজিং আরবান কনস্ট্রাকশন গ্রুপ (বিইউসিজি) কাজ পায়। প্রকল্প বাস্তবায়নে বিইউসিজির সঙ্গে ২০২০ সালের ১১ মে চুক্তি স্বাক্ষর করে বেবিচক। চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একই বছরের ১ অক্টোবর এ কাজের উদ্বোধনও করেন।

প্রকল্পের পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয় উপসচিব শাহ জুলফিকার হায়দায়রকে। প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে বিমানবন্দরটির যাত্রী ধারণক্ষমতা বছরে ছয় লাখ থেকে ২০ লাখে উন্নীত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কাজ চলা অবস্থায়ই প্রকল্পটির কাজ থমকে পড়ে। এ পর্যন্ত প্রকল্পটির মাত্র ১৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একজন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রকল্পটির নকশায় ত্রুটি ছিল। এ কারণে প্রকল্পের কাজ এগোয়নি। নতুন করে ডিজাইন করার পর প্রকল্পের কাজ ফের শুরু হয়েছে। বর্তমানে চলছে পাইলিংয়ের কাজ। আশা করা যায়, ২০২৩ সালের শেষের দিকে কাজ শেষ হবে।

এদিকে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৪৫১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে রানওয়ে শক্তিশালীকরণ ও এয়ার ফিল্ড গ্রাউন্ড লাইটিং সিস্টেম স্থাপনের আরেকটি প্রকল্পের কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পের পিডি হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এ প্রকল্পের কাজ প্রায় ৯৭ শতাংশ শেষ। বর্তমানে লাইটিংয়ের কাজ চলছে। আগামী মে মাসের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করতে পারব বলে আশা করছি। ’

অন্যদিকে ডিজাইন ত্রুটির কারণে বিমানবন্দরের প্রধান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ প্রায় দুই বছর বন্ধ রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ৩৪ হাজার ৯১৯ বর্গমিটারের আধুনিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করার কথা রয়েছে। কাজ শেষ হলে এই টার্মিনালে আটটি বিমান একসঙ্গে ওঠানামা করতে পারবে। এর বাইরে ছয় হাজার ৮৯২ বর্গমিটারের কার্গো ভবন, দুই হাজার ৪১৫ বর্গমিটারের ফায়ার স্টেশন, দুই হাজার ৭৭২ বর্গমিটারের কন্ট্রোল টাওয়ার, এক হাজার ৩৯৫ বর্গমিটারের প্রশাসনিক ভবন নির্মিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সীমানাপ্রাচীরে আটকে কক্সবাজার বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্প

এই বিমানবন্দরের চারপাশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকাজ চারটি স্থানে প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ শেষ হচ্ছে না। এ কারণে অরক্ষিত থেকে যাচ্ছে বিমানবন্দরটি। এ ছাড়া সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিক খাত কক্সবাজার বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন ও সমপ্রসারণকাজের শুরু থেকেই (ভূমি অধিগ্রহণ) ওঠে নানা দুর্নীতির অভিযোগ। এসব অভিযোগে বিমানবন্দরের প্রকল্প পরিচালককে বহিষ্কারের মতো নজির সৃষ্টি হয়েছে। এই বিমানবন্দরের দুর্নীতির খবর দুদক পর্যন্ত পৌঁছে। প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে তদন্তেও নামে দুদক।

জানা গেছে, কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ২০১৫ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। কথা ছিল তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে। কিন্তু এখনো কাজ শেষ হয়নি। শুরুতে উদ্যোগ নেওয়া হয় বিমানবন্দর রানওয়ের দৈর্ঘ্য বাড়ানোর কাজ। আগে রানওয়ে ছিল ছয় হাজার ৬৬৫ ফুট দীর্ঘ। বর্তমানে কিছু অংশ সম্প্রসারণের পর সেটি দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৯০০ ফুট। রানওয়েটি আরো এক হাজার ৭০০ ফুট বাড়ানোর কাজ চলছে অতি ধীরে। বিমানবন্দরের উত্তর দিকে মহেশখালী চ্যানেল ভরাট করে

রানওয়েটি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

এদিকে নিরাপত্তার জন্য বিমানবন্দরের চারপাশে সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কথা ছিল।

কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রকল্প কর্মকর্তা (পিডি) ইউনুস ভুঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চারটি স্থানে প্রতিবন্ধকতার কারণে বিমানবন্দরের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা যাচ্ছে না। এ বিষয়গুলোর সমাধান হলে দ্রুত সব কাজ শেষ করা যাবে। ’

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিন আল পারভেজ বলেন, ‘ঝিনুক মার্কেট স্থানান্তর করতে জমির সন্ধান করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে অন্য তিনটি স্থানের ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ’

রাজশাহীর শাহ মখদুম, সৈয়দপুর বিমানবন্দরও পিছিয়ে

অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে যাত্রীদের চাপ বেশি থাকায় রাজশাহীর শাহ মখদুম, সৈয়দপুর ও যশোর বিমানবন্দরের উন্নয়নে ৫৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প নেয় সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় যশোরে ২৮০ মিলিমিটার, সৈয়দপুরে ২১০ মিলিমিটার ও রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে ২৭০ মিলিমিটার পুরু অ্যাসফল্ট কংক্রিট ওভারলে করার কথা ছিল। এর পাশাপাশি এসব বিমানবন্দরে এয়ারফিল্ড গ্রাউন্ড লাইটিং (এজিএল) সিস্টেমের আপগ্রেডেশন, রানওয়ে সাইড-স্ট্রিপসহ ড্রেনেজব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রতিটি বিমানবন্দরের জন্য পর্যাপ্ত ধারণক্ষমতার একটি করে আধুনিক অগ্নিনির্বাপক গাড়ি কেনার কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি। এর মধ্যে ভুটান ও নেপাল চায় সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে সরকার আধুনিকায়ক করুক। কারণ এই বিমানবন্দরটি তারা ‘ট্রানজিট হাব’ হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। এ বিমানবন্দরের মাধ্যমে পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে আগ্রহী ওই দুই দেশের ব্যবসায়ীরা।

আবার বিভিন্ন কারণে এই বিমানবন্দরটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা জানায়, অনেক স্থানে সীমানাপ্রাচীরের নিচের মাটি সরে গিয়ে ফাঁকা হয়ে গেছে। দিনের বেলা কুকুর, রাতে আশপাশের জঙ্গল থেকে শিয়ালসহ বিভিন্ন জীবজন্তু রানওয়েতে চলে আসছে। অনেক মানুষ ভেতরে প্রবেশ করে ঘাস কাটে। প্রাচীরের অনেক স্থানের কাঁটাতার চুরি হয়ে গেছে। চাইলেই এসব স্থান দিয়ে খুব সহজে বিমানবন্দরে প্রবেশ করা যায়।

সৈয়দপুর বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সুপ্লব কুমার ঘোষ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সীমানাপ্রাচীরের ওপর কাঁটাতার স্থাপনের কাজ চলছে। বিমানবন্দরের সীমানাপ্রাচীরের নিচে গর্ত করে রানওয়ে এলাকার ঘাস কাটতে প্রবেশ করে গ্রামবাসী। বিষয়টি নিয়ে নীলফামারী জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

রাজশাহী বিমানবন্দরের আধুনিকায়নে প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল বড় করা ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে ২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এনডিইর সঙ্গে চুক্তি করে বেবিচক। চুক্তি অনুযায়ী ৮২ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু চুক্তির আট মাসের মাথায় ২ সেপ্টেম্বর এটি বাতিল করে বেবিচক। বর্তমানে সীমানাপ্রাচীরের বেহাল দশার কারণে পুরোপুরি অরক্ষিত শাহ মখদুম বিমানবন্দর। সামনের অংশের সীমানাপ্রাচীর প্রায় পুরোটা ঝুঁকিপূর্ণ। ধসে পড়া ঠেকাতে কোথাও কোথাও বাঁশ দিয়ে ঠেক দেওয়া হয়েছে। আবার কোথাও টিন দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। রাজশাহী নগরীর রেলগেট থেকে নওহাটা পর্যন্ত ফোর লেন রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজ করতে গিয়ে এ দুর্দশায় পড়ে সীমানাপ্রাচীরটি। আবার সীমানার ভেতর গরুও পালন করে বিমানবন্দরের কর্মীরা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বিমানবন্দরের পশ্চিমদিকের সীমানাপ্রাচীর রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে ফাটল। রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক ঘেঁষে এই প্রাচীরটি বছর দুই আগে সংস্কার করা হয়েছিল। নিম্নমানের কাজ নিয়ে তখন কালের কণ্ঠে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল। বর্তমানে পুরো প্রাচীরটাই ধসে পড়ার অবস্থা হয়েছে। পূর্বদিকে রানওয়ের শেষে রয়েছে আরেকটি সীমানাপ্রাচীর। সেখানে সামনের অংশের প্রাচীরের পাশে মহাসড়কের নতুন ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণ করা হচ্ছে। ড্রেনটি বিমানবন্দরের সীমানাপ্রাচীরের সমান উঁচু। সীমানাপ্রাচীরের কিছু অংশে কাঁটাতারও নেই। ফলে চাইলে যে কেউ ফুটপাত দিয়ে বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে পারে।

রাজশাহী বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক দিলারা খানম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজের কারণে প্রাচীরের অনেকাংশ ভেঙে পড়েছে। এগুলো সংস্কার করতে হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। নির্দেশনা পেলেই সংস্কারকাজ করা হবে। ’

বেবিচকের তদন্ত প্রতিবেদনেও বিমানবন্দরগুলোর দুর্দশার চিত্র

দেশের অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোর দুর্দশার চিত্র উঠে এসেছে বেবিচকের তদন্ত প্রতিবেদনেও। এতে বলা হয়েছে, দেশের বেশির ভাগ বিমানবন্দরের রানওয়েতে বিমান অবতরণের জরুরি টিএইচআর এবং সেন্ট্রাল লাইন মার্কিং নেই। রানওয়েতে বিমান দাঁড়ানোর অ্যাপ্রোনের মার্কিংও নেই। নেই রানওয়ের দুই প্রান্তে ৬০ মিটারজুড়ে সেফটি এরিয়া। সেফটি এরিয়া বিমান অবতরণে দুর্ঘটনাজনিত কারণে ক্ল্যাশ হলে বিমানসহ যাত্রীদের বাঁচাতে সহায়তা করে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সিঙ্গেল লাইন ল্যাম্প নেই। নিরাপত্তামূলক বাতিগুলো অকেজো। বিমানবন্দরগুলোর সীমানাপ্রাচীর অনেকটা নিচু ও জরাজীর্ণ। দেশের অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশ করে সাইকেল চালানো, গরু চরানো, গরুর জন্য ঘাস কাটা, ছাগল ও অন্যান্য প্রাণীর অবাধ বিচরণ নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমানের মোবাইলে ফোন করলে তিনি ধরেননি। পরে অফিসের টেলিফোন নম্বরে ফোন করলে তাঁর পিএ বলেন, ‘স্যার মিটিংয়ে ব্যস্ত’। এ বিষয়ে জানতে চেয়ে পরে তাঁর মোবাইলে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, ‘নকশার ত্রুটির কারণে সিলেট বিমানবন্দরের উন্নয়নকাজ বন্ধ ছিল। আবার নতুন করে নকশার কাজ করা হয়েছে। আধুনিকায়নের কাজ এখন দ্রুত শুরু করা হবে। আর রাজাশাহী বিমানবন্দর আধুনিকায়ন কাজের প্রথম টেন্ডার বাতিল হওয়ায় নতুন করে টেন্ডার হয়েছে। এখানেও দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। সৈয়দপুর বিমানবন্দর এখন অনেক সুন্দর। ’

কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়নকাজে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই সরকারের আমলে দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান পাঁচটি প্রকল্পের দায়িত্বে নেই। আমার জানা মতে তিনি শুধু চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের কাজ দেখছেন। ’

সংবাদটি শেয়ার করুন

Shares

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

প্রযুক্তি সহায়তায়: মুশান্না কম্পিউটার আইটি